Thanksgiving Day

————————————————————————
অনেকদিন পর Thanksgiving day নিয়ে একটা ছোট গল্প লিখলাম। আশা করি ভালো লাগবে সবার। গল্পের সব চরিত্র ও ঘটনাবলী কাল্পনিক। বাস্তবের সাথে কোনো মিল থেকে থাকলে তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ও কাকতালীয়। গল্পটি পড়ে ভালো লাগলে যদি আপনার মতামত পাই, তাহলে খুব ভালো লাগবে আমার 😊। ————————————————————————

“Thanksgiving” কথাটার বাংলা তর্যমা করলে হয় ধন্যবাদজ্ঞাপন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বছরের বিভিন্ন সময়ের একটি দিনে উদযাপিত হয় এই “ধন্যবাদজ্ঞাপন দিবস”। ইতিহাস ঘাঁটলে বোঝা যায় এই সময় আমাদের বহু বহু বছর আগেকার পূর্বসূরীরা বিগতবছরের ফসল কাটার আনন্দে ও বিগতবছরের নানান ভালো বিষয়গুলির কথা চিন্তা করে এই দিনটি উদযাপন করতো। তবে সময়ের সাথে এই দিনটির গুরুত্ব বৃদ্ধি পেতে পেতে বর্তমানে আপামোর জনসাধারণ এই দিন এবং তৎসংলঘ্ন দু-একদিনকে জাতীয় ছুটি হিসাবে বিবেচিত করে এই দেশগুলিতে। এই সময় তারা পরিবারের লোকের সাথে আনন্দে মশগুল হয়, বা বন্ধুবান্ধবদের সাথে খুশিতে মেতে ওঠে। ছুটি থাকায় দূরে থাকা মানুষজন ঘরে ফিরে আসার ফুরসৎ পায়, বা ঘরের সবাই মিলে দূরে কোথাও একটু হাওয়াবদল করবার উৎসাহে ভরপুর হয়ে ওঠে।

সেই ছুটি পেয়ে রৌণক ভাবতে থাকে, “এই ছুটিটার কি কোনো দরকার ছিলো?” কি ভাবছেন, “এ আবার কেমন ছেলে রে বাবা, ছুটি চায় না! এ কি workaholic নাকি?” কিছুটা ঠিক আন্দাজ করেছেন, আবার কিছুটা নয়। তাহলে রৌণক সম্পর্কে আপনাকে একটু অবগত করানো যাক।

রৌণক ওরফে রৌণক মৈত্র, অ্যামেরিকার এক নামি ইউনিভার্সিটিতে পি এইচ ডি করছে কিছু বছর হলো। অ্যামেরিকা মানেই হয়তো আপনার মনে হবে যে এই ছেলেটি ছোট থেকেই পড়াশুনায় তুখড়। ক্লাসে ফার্স্ট ছাড়া সেকেন্ড কখনো সে হয়নি, যেমনটা সাধারনত হয়ে থাকে। তবে এক্ষেত্রে সেটা ঠিক প্রযোজ্য নয়। রৌণক পড়াশুনায় ভালো ঠিকই কিন্তু তার পড়াশুনার জীবন চড়াই উতরাই সমৃদ্ধ। ক্লাস ৮-এ অঙ্কের ষান্মাসিক পরীক্ষায় ৫০-এ ৪-ও যেমন পেয়েছে সে, আবার সেই একই ছেলে মাধ্যমিকে অঙ্কে ১০০-য় ১০০-ও পেয়েছে। ডাক্তারী পড়বার আশায় বুঁদ হয়ে একটি বছর ঘরে বোসে থেকে সে যেমন পর পর দুইবার ডাক্তারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি, আবার সেই ছেলেই ইঞ্জিনিয়ারিং-এ প্রবল অনীহা থাকা সত্ত্বেও কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে বেসরকারী একটি কলেজে পড়ে হঠাৎই কম্পিউটারের কিছু বিষয়কে অত্যন্ত ভালোবেসে ফেলে বিদেশে এসে প্রথমে মাস্টার্স ও পরে রিসার্চের কাজে রত হয়েছে।

ছেলেটির বয়স ২৮। গোলগাল চেহারা। গায়ের রং ফর্সা। ক্লাস ৮ থেকেই তার চোখে দূরের জিনিসকে ভালোভাবে দেখবার জন্য একজোড়া কাঁচের অলংকার বসে গেছে সর্বক্ষণের জন্য। মুখচোরা স্বভাবের হওয়ায় লোকের মাঝে সে নিজেকে মেলে ধরতে পারে না। হই-হুল্লোড়-পার্টি এসব একেবারেই ভালো লাগে না তার। একা একা ঘুরতে যাওয়া, নিজের সাথে একা সময় কাটানো এইসবই ভালো লাগে তার। গুটিকয় কিছু মানুষ যারা সবাই-ই তার তুলনায় বয়সে বেশ বড়, তাদের সাথেই সে কিছুটা স্বচ্ছন্দবোধ করে। তার মনে হয়, এই মানুষগুলি জীবনের বহু চড়াই উতরাই পেরিয়ে আজ এই জায়গায় পৌঁছেছে। এই মানুষগুলির থেকে তাই জীবনের অনেক শিক্ষা পাওয়া যায় বলেই তার অনুমান। পড়াশুনা এবং কাজের পেছনে তার সীমাহীন সময় অতিবাহিত করার কথা না হয় বাদই দিলাম, কারণ হয়তো আপনারা ধরেই ফেলেছেন এতোক্ষণে ওর চিন্তা দেখে।

এখন হয়তো ভাবছেন যে এইরকম ছেলে যখন, তাহলে এর রিলেশনসিপ বলতে হয়তো কিছুই নেই! ঠিক ধরেছেন। রৌণক সোজা ইংরাজীতে যাকে বলে “single”, ঠিক সেটাই হলো তার রিলেশনসিপ স্ট্যাটাস। কৈশোর এবং যৌবনের প্রাক্কালে তার কখনোই কারোর প্রতি ভালোবাসা তো দূরে থাক, ভালোলাগাও জন্মায় নি। বন্ধুরা তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে সে তার উত্তরে, বাবা মার ভয়ের দোহাই দেখাতো ঠিকই, কিন্তু তার মনের অন্দরে খালি মনে হতো, সম্পর্ক মানেই দায়িত্ব। কিন্তু বাবার কষ্টার্জিত পয়সার ওপর ভিত্তি করে কখনো অন্য আর এক মানুষের দায়িত্ব নেওয়া যায় না। তাই সে কারোর পানেই তাকায় নি কোনোকালেই।

“কোনোকালেই” কি বলাটা ঠিক হলো? না, হয়তো পুরোটা ঠিক হলো না। বিদেশে এসে একটু একটু করে পয়সা রোজগারের পর দু-একবার যে একটু আবেগময় দৃষ্টি কারোর পানে ফেলেনি রৌণক তা নয়। কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে অপরপক্ষ থেকে আশানুরূপ উত্তরের বদলে রোষানলই বর্ষিত হয়েছে তার ওপর প্রতিবার। অগত্যা, “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে”।

এহেন রৌণক আজ Thanksgiving-এর দিন সকালে তার প্রিয় কফি কাপটায় চুমুক দিতে দিতে তার ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দায় থাকা তার সাধের আরামকেদারাটার ওপর শরীর এলিয়ে দিয়ে বাইরের রৌদ্রজ্জ্বল প্রকৃতির শোভা অনুভব করছে। তার অ্যাপার্টমেন্টের সামনেই রয়েছে একটা নাম না জানা সুন্দর গাছ যাতে বেশ সুন্দর লাল ছোট ফল হয়। এই কারণে, প্রচুর পাখি, কাঠ বিড়ালির আনাগোনা লেগেই থাকে গাছটায়। সেসব দেখতে বড় ভালোবাসে সে।

সেই দৃশ্য দেখতে দেখতে যখন সে প্রকৃতির আলিঙ্গনে নিজেকে আবদ্ধ করেছে, সেই সুন্দর মুহুর্তে হঠাৎ তার কানে এলো কিছু মানুষের কথা বলার শব্দ ও একটি গাড়ির আগমনের শব্দ। “ব্যাপার কি?” জানবার জন্য কৌতূহলী হওয়ায় সে শরীরটাকে একটু ঝুঁকিয়ে নীচের দিকে উঁকি মারে। তারপর বুঝতে পারে, যে তার অ্যাপার্টমেন্টের তলার অ্যাপার্টমেন্টে যে বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড থাকে, তারা কোথাও ঘুরতে যাবে, এবং সেই কারণেই এক উবের চালক তাঁর গাড়ি নিয়ে সেই কপোত-কপোতির সম্মুখে উপস্থিত। উবের চালক, তাঁর গাড়ির ডিগি খুলে দিলে সেই কপোত-কপোতি তাদের লটবহর গাড়িতে তুলে, নিজেরা গাড়িতে বোসে রওনা হলো তাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। গাড়ির যাত্রাপথের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে রৌণকের মনটা কেমন যেন উদাস হয়ে গেলো।

- “কবে যেন ভাইটাকে একটু জড়িয়ে ধরতে পেরেছিলাম শেষবারের জন্য?” - ভাবে রৌণক। “মা, বাবা, দিদিন, ঠাম্মা সবার সাথে কবে যেন শেষবারের জন্য সশরীরে দেখা হয়েছিলো?”

ভাবতে ভাবতে আকাশের দিকে তাকিয়ে একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে সে। কারণ সে জানে যে তার ভিসা শেষ হয়ে যাওয়ায় দেশে গেলে যদি কোনো অসুবিধে হয় তাহলে ফেরত আসতে অনেক সমস্যা হতে পারে তার। তাছাড়া, তেলের দাম বৃদ্ধি সহ সমস্ত ব্যাপারে মূল্যবৃদ্ধি এবং সীমিত উপার্জনের জন্য হাতে পয়সাও আছে তার কাছে কম। তাই দেশে যাওয়া এখন তার কাছে এক দুরূহ ব্যাপার। চোখটা যেন একটু ভিজে ওঠে তার।

বাড়ির কথা ভাবতে ভাবতে বিভোর হয়ে থাকা রৌণকের স্মৃতিমধুর ভাবনাগুলিতে হঠাৎ বাধ সাধলো আরও একটি গাড়ির আগমন। সে চোখ মুছে গাড়িটির দিকে তাকায়। গাড়িটি এসে তার অ্যাপার্টমেন্টের নীচে পার্কিং লটে থামলে পর, তার অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের এক তলাতে থাকা আর এক জন সহবাসিন্দা, এক কম বয়স্কা মহিলা অত্যন্ত আনন্দমুখরিত হয়ে বেরিয়ে আসলো তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে। মহিলার বয়স আন্দাজ ১৯-২০ হবে। বিগতদিনে যাতায়াতের পথে কখনো যদি তার সাথে দেখা হতো রৌণকের তাহলে তার সাথে “Hi” ছাড়া আর কোনো কথা হয়নি তার। হয়তো রৌণক যে ইউনিভার্সিটিতে পড়ে সেই ইউনিভার্সিটিরই আন্ডারগ্র্যাজুয়েটের ছাত্রী সে।

কিছুক্ষণ পর, গাড়ি থেকে একজন পুরুষ ও একজন মহিলা বেরিয়ে আসলো অত্যন্ত খুশিমুখে। দুজনের বয়স মেয়েটির তুলনায় কিছু বেশী বলে মনে হলো রৌণকের। কমবয়স্কা মেয়েটি অত্যন্ত আনন্দমুখরিত হয়ে জড়িয়ে ধরলো প্রথমে অন্য মেয়েটিকে ও তারপর পুরুষটিকে। তারাও মনের অন্দর থেকে নির্গত বহুকালের ভালোবাসা দিয়ে যেন আলিঙ্গনে আবদ্ধ করলো সেই কম বয়স্কা মেয়েটিকে। দৃশ্যটি আনন্দ উদ্রেককারী হলেও রৌণকের মনে তা বয়ে নিয়ে আনলো আরও বিষন্নতা, স্বজনদের কাছে না পাবার বিষন্নতা। সে তাই বারান্দা ছেড়ে ঘরে ঢোকবার উপক্রম করলো।

চেয়ার ছেড়ে সবে উঠতে যাবে রৌণক এমনসময় হঠাৎ তার কানে এলো একটি ছোট্ট বাচ্চা মেয়ের কল কাকলি। সে অবাক হয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে দেখে, তার অলক্ষে কখন সেই গাড়িটির যাত্রীরা গাড়ির পিছনের দরজা খুলে দিয়েছে এবং সেখান থেকে নেমে এসেছে একটি ফুটফুটে ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে। সকালের নরম রোদ্দুর তার ধব ধবে সাদা গালদুখানিতে পড়ে ছোট্ট গালদুটিকে লাল করে তুলেছে। একগাল হাসি নিয়ে সে একবার তাকায় তার বাবা বা মার দিকে ও একবার তাকায় রৌণকের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের সহবাসিন্দাটির দিকে। কমবয়স্কা মহিলাটি সেই পরীর মতো সুন্দর ছোট্ট বাচ্চা মেয়েটির সামনে হাঁটু মুড়ে বোসে তাকে আদর করলো খুব, এবং পরিশেষে তাকে কোলে তুলে নিয়ে তারা সবাই আস্তে আস্তে হেঁটে যেতে লাগলো মেয়েটির অ্যাপার্টমেন্টের উদ্দেশ্যে।

যাবার সময় রৌণকের চোখের পানে চোখ পড়লো বাচ্চা মেয়েটির। ছোট্ট নীল চোখজোড়া যেন অফুরন্ত খুশিতে ভরপুর। রৌণকের যাবতীয় দুঃখ কষ্ট যেন ঐ চোখজোড়া আর ঐ সুন্দর হাসি শোষণ করে নিয়ে তার বদলে তাকে ফেরত দিচ্ছে এক অনাবিল খুশি। সে বাচ্চা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে তার মতোন করেই এক গাল হেসে হাত নাড়লো। অমনি সঙ্গে সঙ্গে সেই বাচ্চা মেয়েটিও রৌণকের দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে হাত নাড়লো। তার বাবা মা বা সেই সহবাসিন্দা মেয়েটি এসব ঘটনা চাক্ষুস করলো না, কারণ তারা তখন নিজেদের মধ্যে কথা বলায় ব্যস্ত, কিন্তু সেই ছোট্ট হাতে হাত নাড়ানো যেন রৌণককে হাতছানি দেবার মতো ডাকলো। বাচ্চারা অনেক সময়তেই বাই বাই ঠিক মতো না করতে পেরে অনেকটা কাছে ডাকার মতো করে বাই বাই করে। এক্ষেত্রেও সেই একই ঘটনা হওয়ায় রৌণকের কিছুক্ষনের জন্য যেন একটু ঘোর লেগে যায়। সেই বাচ্চা মেয়েটিকে নিয়ে সবাই সেই কম বয়সী মেয়েটির অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে গেলে পর রৌণকের খালি মনে হতে থাকে আর একটিবার যদি সেই বাচ্চা মেয়েটির দেখা সে পেতো, তাহলে আর একবার তাকে হাসি মুখে টা টা করতো।

বেশ কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত হলো। রৌণক আশা ছেড়ে এবার চেয়ার ছেড়ে উঠে আবারও ঘরে ঢোকার উপক্রম করছে, এমনসময় সে দেখলো যে সেই কম বয়স্কা মেয়েটির অ্যাপার্টমেন্টেটির দরজা আস্তে আস্তে খুলে গেলো এবং ভেতর থেকে কালবৈশাখীর মতো বেগে একরাশ খুশি নিয়ে হাসতে হাসতে বাইরে বেরিয়ে আসলো সেই ছোট্ট বাচ্চা মেয়েটি। হাতে একটা ছোট্ট লাল বল। বাইরে বেরিয়ে এসেই সে বলটাকে ছোঁড়বার চেষ্টা করলো তার কচি হাতে। বলটা সামনে যাবার বদলে তার পিছনেই হাত ফস্কে মাটিতে পড়ে গেলো। কিন্তু তাতে তার আনন্দ আরও দ্বিগুণ হয়ে আরও হাসতে হাসতে সে বলটাকে কুড়িয়ে নিয়ে আবার ছোঁড়বার চেষ্টা করলো। রৌণকের তা দেখে তো হাসি আর ধরে না। তার মনের সমস্ত দুঃখই যেন শুষে নিয়েছে সেই বাচ্চা মেয়েটি। তার বাবা মা ও সেই সহবাসিন্দা মেয়েটি তখন বাইরে চেয়ার পেতে বসে কথা বলছে নিজেদের মধ্যে এবং সেই বাচ্চা মেয়েটির দিকে খেয়াল রাখছে।

খেলতে খেলতে হঠাৎ একবার মেয়েটির চোখ পড়ে রৌণকের ওপর। সে তৎক্ষনাৎ একগাল হেসে, হাত নাড়তে থাকে তার দিকে। রৌণকও তা দেখে খুশি হয়ে হাত নাড়ে এবং আঙ্গুল নির্দেশ করে দেখায় বলটি কোন দিকে রয়েছে। মেয়েটি এবার রৌণকের আঙ্গুল নির্দেশিত পথে দৃষ্টি অনুসরণ করে বলটি খুঁজে পেয়ে হাসতে হাসতে ও লাফাতে লাফাতে সেই দিকে এগিয়ে গিয়ে বলটি তুলে এনে আবার পিছন ফিরে রৌণকের দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে সেই হাতছানি দেবার মতো করে তাকে ডাকতে থাকে। রৌণক তাকে বল ওপরে ছোঁড়বার ইঙ্গিত করলে সে সেটা অনুসরণ করে এবং দুই মানুষই খুশিতে ভরে ওঠে।

এরকম আরও বেশ কয়েকবার দুই মানুষ নিজেদের মধ্যে আকার ইঙ্গিতে কথা বলবার পর রৌণক শুনতে পায়, “You can join with her if you want”। তন্দ্রা ভেঙ্গে রৌনক শব্দের উৎস সন্ধানে তাকালে পর বুঝতে পারে যে সেই বাচ্চা মেয়েটির মা তাকে নীচে ডাকছে যদি সে মেয়েটির সাথে খেলতে চায় তো। এই আহ্বান রৌণক আর ফেলতে পারলো না। সে দৌড়ে চলে এলো নীচে এবং সেই ভদ্র মহিলাটিকে একগাল হেসে বললো, “Thank you so much. I am Raunak. Nice to meet you”। একটু কুশল বিনিময়ের পর সেই ভদ্র মহিলা তোকে জানালো যে তিনি অনেকক্ষণ ধরেই তাঁর মেয়ে ও রৌণকের মজাদার ক্রিয়াকলাপ দেখছিলেন। আর তাই ব্যাপারটা বেশ ভালো লাগায় তাকে তিনি তাঁর মেয়ের সাথে খেলতে ডাকলেন। রৌণক খুব খুশি হয়ে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর কাছে অনুমতি চায় তাঁর মেয়ের সাথে একটু খেলবার। মহিলা এক বাক্যে রাজী। রৌণক অনুমতি পেয়ে খুশি হয়ে বাচ্চা মেয়েটির দিকে তাকাতেই মেয়েটি আনন্দে এক লাফ দিয়ে হাসতে হাসতে তার দিকে সেই হাতছানির ইঙ্গিত করে। রৌণক মন্ত্রমুগ্ধের মতো তার দিকে এগিয়ে গিয়ে তার সামনে হাঁটু মুড়ে বোসে পড়ে তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করে। আদর করা শেষ হলে পর রৌণক দেখে যে মেয়েটির মা তার পাসে এসে দাঁড়িয়েছে। তিনি তাকে তখন বললেন, “Baby, say happy thanksgiving”। মেয়েটি তার মায়ের পোশাকটা বাঁহাতে খামচে ধরে রৌণকের দিকে তাকিয়ে ডান হাত দিয়ে সেই হাতছানির ইঙ্গিতে তাকে ডেকে একগাল হাসতে হাসতে বলে, “অ্যাপি থ্যানসগিবিন”।

একটু ভাবনায় বিহ্বল হয়ে পড়ে রৌণক। একলা থাকার একাকীত্ব এবং আরও অনেক দুঃখের মধ্যেও কোথা থেকে এই অফুরন্ত খুশির আমেজ আজ এই শুভদিনে তার কাছে এসে সমস্ত দুঃখ কষ্টকে নিংড়ে নিয়ে তার মনের মধ্যে পুরে দিচ্ছে খুশি আর খুশি। মনে মনে রৌণক তার ইষ্টদেবতাকে অনেক ধন্যবাদ জানায়। তার মনে হয় আজকের দিনটির নামকরণ যেন যথার্থ হয়েছে। সেও তখন, বাচ্চা মেয়েটির হাতের মুঠোটা নিজের হাতে চেপে তার উদ্দেশ্যে বলে, “Happy Thanksgiving”।