Tennessee River Trip, June 26, 2023
বেশ কয়েকদিন হলো, সান্ডে সাস্পেন্স পরিচালিত “দূর্গেশনন্দিনী” শোনার সময়ই পাচ্ছিলাম না কাজের চাপে। আজকে তাই সকালবেলা কাজ শেষ করে বিকেলবেলায় ভাবলাম গল্পটা শুনবো। শুনতে গিয়ে দেখি তা অন্ততপক্ষে ৪ ঘন্টার। তখন মন বললো যে গল্পটা একটু গাড়ি চালাতে চালাতে শোনা যাক, কারণ বহুকাল কোথাও যাওয়া হয় না আমার। তাই তক্ষুনি স্নেহাকে নিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে বেরিয়ে পড়লাম গল্পটা শুনবো বলে। আমার এমন করতে খুব ভালো লাগে কারণ অনেক সময়ই গল্পে অনেক প্রকৃতির বর্ণনা থাকে যেগুলো গাড়ি চালাতে চালাতে আসেপাশের প্রকৃতির সাথে মিলে যায় আর তখন এক অন্যরকমের আনন্দ উপভোগ করি আমি। তাছাড়া গাড়িতে অনেককটা স্পীকার থাকায় সারাউন্ড সাউন্ড টেকনলোজির কারণে মনে হয় যেন আমি সম্পূর্ণরূপে গল্পের পরিস্থিতিতে রয়েছি। তাই ঘরে একটা স্পীকারে শোনবার বদলে গাড়িতে সান্ডে সাস্পেন্স বা গপ্পো মীরের ঠেকের গল্প শুনতে বড় ভালো লাগে আমার।
রাস্তায় চলতে চলতে অ্যালাবামাতে টেনেসী নদী পেরোনোর সময় হঠাৎই একটা মনোরম সেতু আর নদীতীরে একটা ফাঁকা পিকনিক স্পট দেখে খুব ভালো লাগলো আমার। স্নেহার গতিপথ ঘুরিয়ে ওখানে গেলাম। সুন্দর বাতাস বইছে। আমি ছাড়া আর দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি সেখানে নেই। নদীর ধারে অনেক নাম না জানা পাখি কলকাকলি করছে। সুন্দর নদীটায় আসতে আসতে জল বয়ে যাচ্ছে। আসেপাশের উঁচু উঁচু গাছগুলোর ভেতর দিয়ে সুন্দর বাতাস বয়ে যাওয়ার কারণে নানান ধরণের শব্দ হচ্ছে। সূর্য প্রায় অস্ত যায় যায়। আলো আঁধারির খেলা চলছে আকাশে আর আসেপাশের পরিবেশে। পাশের সেতুটা দিয়ে মাঝেসাঝে এক-দুটো গাড়ি জোরে চলে যাচ্ছে সেতু পেরোনোর জন্য। এই সুন্দর নির্জন পরিবেশে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সেই নির্মল প্রকৃতির শোভা উপভোগ করলাম। মনে হচ্ছিলো যেন গঙ্গার পাড়ে গিয়ে চুপ করে বোসে গঙ্গার শোভা দেখছি। কিছু ছবিও তুললাম তখন সেই সুন্দর প্রকৃতির। তারই দু-একটা ছবি রইলো এখানে সবার জন্য। হয়তো ভালো লাগবে সবার, যেমন আমার লেগেছিলো 😊।
